12:57am  Saturday, 31 Oct 2020 || 
 ||


সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের ছবি দেখছিলেন একদল তরুণ। পরিচিত হতেই জানা যায় তাদের কেউই এখনও কলেজের চৌহদ্দি পেরোননি। এই দলটির সদস্যরা অনলাইনে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। আজ ক্যাম্পাস বন্ধ। তাই সকাল থেকেই সবাই স্বাধীনতা চত্বরে একত্রিত হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ছবি তাদের আড্ডার রসদ যোগায়। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী হাবিব জানায়, অনলাইনের বাইরেও একটা দুনিয়া আছে। সেই দুনিয়াতে তারাও আছেন। তাই অনলাইনে বন্ধুত্ব হলেও সময় সুযোগ পেলেই তারা একত্রিত হন। আজ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তারা ঘুরতে বেড়িয়েছেন। একই কথা জানালেন শেরে বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাজিদ। তিনি বলেন, �সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের কয়েকটা গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আন্তযোগাযোগ আছে। ২৬ মার্চ উপলক্ষে আজ স্বাধীনতা স্তম্ভে আড্ডার জায়গা বেছে নেয়া হয়েছে।� স্বাক্ষর, হাবিব, নাজমুলের মতো অনেকেই আজ সোহরাওয়ার্দীতে হাজির হয়েছেন। আজ থেকে স্বাধীনতা জাদুঘর সবার জন্য ‍উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। চৈত্রের খরতাপ উপেক্ষা করে অনেককেই দেখা গেল স্বাধীনতা জাদুঘরে ঢুকতে। মানুষের রীতিমত ঢল নেমেছে সেখানে। জাদুঘরে ঢুকতেই ঠাণ্ডা বাতাসের পরশ লাগে। ভেতরে গানের সুর বাতাসে ভাসছে। লম্বা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই মনে হয় এ বুঝি একটু টুকরো বাংলাদেশ। যেখানে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। সেই ছবিটি দিয়ে জাদুঘরে মূল আবহ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ইতিহাসের খণ্ডচিত্রগুলো স্থিরচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া, আলোকসজ্জা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে। স্বাধীনতা জাদুঘরের এই পাতাল পরিবেশ বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরো খানিকটা সমৃদ্ধ করেছে। এমনই মন্তব্য করলেন জহিরুল ইসলাম। এখানে তার আজই প্রথম প্রবেশ। ঠিক যেন শোকেসে সাজানো ছবি একটার পর একটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল দুই শিশু। নয়ন ও নাজিম নামের ওই দুই শিশু জানায়, তারা আসলে মামা-ভাগ্নে। দুইজনের বয়সও প্রায় কাছাকাছি। মামা পড়ে ক্লাশ সিক্সে ভাগ্নে সেভেনে। নয়ন বলে, �আমরা এই প্রথম এখানে আসলাম। এখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক ছবি আছে। এগুলো দেখে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক ধারণা পেয়েছি।� আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাতাল জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনে জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

 

মুক্তিযুদ্ধ



Editor : Husnul Bari
Address : 8/A-8/B, Gawsul Azam Super Market, Newmarket, Dhaka-1205
Contact : 02-9674666, 01611504098

Powered by : Digital Synapse