03:56pm  Thursday, 29 Oct 2020 || 
 ||


ঈদে যারা অল্প কদিনের জন্য পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে একটু নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ানোর কথা ভাবেন তারা বাংলাদেশ থেকে প্লেনে করে মাত্র দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন মায়ানমার। মায়ানমারের রাজধানীর নাম ইয়াংগুন। ছিমছাম শহরটিতে গেলে দেখা যাবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর জাদুঘর, মায়ানমারের প্রসিদ্ধ স্যে ডাগোন প্যাগোডা, জেম মিউজিয়াম অ্যান্ড জেমস মার্ট, জাহাজের আদলে তৈরি ‘রয়্যাল কারাউইক হল’। যেখানে রাতের খাবার খেতে খেতে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গীত উপভোগ করা যায়। এছাড়াও হালকা রোদে বাসে করে শহরটিতে ঘুরে বেড়ালে দেখা যাবে সেখানকার জেনারেল হাসপাতাল, মিশনারি স্কুল, ছেলেদের স্টেট হাই স্কুল, মেয়েদের আলাদা স্কুল, সু ই প্যাগোড়া, সোডাগোন প্যাগোডা, সূচির বাসভবন, মায়ানমার পারলামেন্ট, সেখানকার আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার হওয়া টিক ট্রি, বো গক মার্কেট, মহাবান্ডুলা পার্ক। দুপুরে সেখানকার পাই ডং স্যু ইয়েক থা (হালপিন) রোড ও মানায়ারি রোডের খাবার রেস্তোরাঁ ‘পানডোমার রেষ্টুরেন্ট’ পাওয়া যাবে বাংলাদেশের মতোই ভাত, মাছের তরকারি, মুরগির তরকারি ও সবজির হরেক রকম পদ। ইয়াংগুনের ডাউন টাউনশিপের জিয়াকা রোডে গেলে দেখা যাবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর জাদুঘর। সেখানে তার মরদেহ সমাহিত রয়েছে। দুই তলার জাদুঘরের একতলায় তার প্রকৃত সমাধিস্থল। আর ঠিক তার উপর রয়েছে আরেকটি প্রতীকী সমাধি। তার একপাশে রয়েছেন স্ত্রী জিনাত মহল ও অন্যপাশে তার নাতনি প্রিন্সেস রওনাক জামানি বেগম। সম্রাট জাফর ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। বৃটিশ সরকার তাকে গোপনীয়তায় সমাহিত করেছিলেন। ১৯৯১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাফর শাহ মেমোরিয়ালের কনস্ট্রাকশন কাজ চলার সময় তার মরদেহ আবিষ্কার হয়েছিল। সমাধিতে মুসলামান ধর্মাবলম্বীরা গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ওই মসজিদে থাকা লোকেরা শাহ জাফরকে সুফি দরবেশ বা সুফি সাধক বলেও মানেন। বাদশাকে তারা মনেপ্রাণে ভালোবেসে তার স্মৃতি আঁকড়ে আছেন। dich-thuat-tieng-myanmar মায়ানমারের আরেক দর্শনীয় নিদর্শন ‘স্যে ডাগোন প্যাগোডা’। প্যাগোডার কাছাকাছি প্রবেশ করতেই জুতা মোজা খোলা শুরু করতে হয়। কারণ, সেখানে জুতা কিংবা মোজা পরে প্রবেশের অনুমতি নেই। বাস থেকে নেমে প্যাগোডায় প্রবেশের জন্য টিকিট সংগ্রহ করে প্রবেশপথে দেখা যাবে কয়েক হাজার জুতা মোজা স্তুপ করে রাখা। তাদের দুর্গন্ধে নাকে কাপড় গুজে রাখার উপক্রম হয়। স্যে ডাগোন প্যাগোডাটির উচ্চতা ৩২৬ফিট। সেটি ১১৪ একর জমির উপর তৈরি। প্যাগোডার উপরের অংশের অধিকাংশই গোল্ড প্লেটেড। প্যাগোডার নিচে রয়েছে বুদ্ধের ছোট বড় বহু মূর্তি। তারদিকে সোনালি রংয়ের এক রাজকীয় আবরণ যেন প্যাগোডাকে ঘিরে রেখেছে। বুদ্ধের মূর্তির চারদিকে লাল-নীল আলো জ্বলছে। প্যাগোডার চারদিকে মানুষের ঢল। এত্তগুলো মানুষ এখানে তারপরও কেমন নীরবতা, একটা কেমন পবিত্র পরিবেশ। ‘রয়্যাল কারাউইক হল’ বিরাট একটা কৃত্রিম জাহাজের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। সোনালি আলো ঝলমলে প্যালেসের চারদিকে জল টলমল করে। জলের ধারে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে বসে নীরবে কথা সেরে ফেলতে পারেন সহজে একান্তে। হলটায় যেখানে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে সেটি অনেকটা বাংলাদেশের কোনো বড় রেস্টুরেন্টের হল রুমের মতো। চারদিকে ছোট বড় টেবিলের ঠিক সামনে রয়েছে মঞ্চ। সেখানে মায়ারমারের ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশনে ব্যস্ত থাকেন শিল্পীরা। দর্শকরা খাবারের পাশাপাশি অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন। খাবারের মেন্যুতে সেখানকার স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি ভারতীয় ও ইউরোপীয় খাবারও পাওয়া যাবে। মায়ানমারে থাকার জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হোটেল। শহরে ঘুরে বেড়ানোর সময় রাস্তার পাশে দেখা যাবে হরেক রকমের গাছ। মাঝে মধ্যে কিছুটা যানজটে পড়ে গাড়ি। ওই সময় রাস্তার পাশে ‘থানাকা’ নামের গাছটি দেখা যায়। ওই দেশের আসবাবপত্র তৈরির জন্য সেটি সুপ্রসিদ্ধ। খনিজ সম্পদ সম্পৃদ্ধ দেশ মায়ানমারে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে জেম মিউজিয়াম অ্যান্ড জেমস মার্ট। মিউজিয়ামে প্রবেশের পর প্রত্যেক দর্শনার্থীর মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা সেখানকার কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।

 

ভ্রমন



Editor : Husnul Bari
Address : 8/A-8/B, Gawsul Azam Super Market, Newmarket, Dhaka-1205
Contact : 02-9674666, 01611504098

Powered by : Digital Synapse